Home


লাইফ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র

"ফিরে আসার পথ আছে..."

📍 ধ্রুব এরিক টাওয়ার, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ এর চতুর্থ তলায় অবস্থিত

আমাদের সম্পর্কে

"ফিরে আসার পথ আছে..." এই বাণী ভিত্তিক আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করতে চায় যে পুনর্বাসন চিকিৎসার মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদেরকে একটি সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পুনর্বাসন চিকিৎসা বা রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের বিপরীতে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও ভুল তথ্যের উপর গড়ে ওঠা ধ্যানধারণার পরিবর্তনের জন্যই এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষই পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে এবং সঠিক চিকিৎসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসা সম্ভব।

নারকোটিক্স এনোনিমাস, থেরাপিউটিক কমিউনিটি, এবং ইতিবাচক দলগত চিকিৎসা (পিপিসি) ভিত্তিক এই তিন মাসের চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা আশাহত মাদকাসক্তদের প্রতি আমাদের পরিষ্কার বাণী জানাই: "ফিরে আসার পথ আছে..."

আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতি

আমাদের কেন্দ্রে তিনটি প্রমাণিত থেরাপি পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি ব্যাপক চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি পদ্ধতির রয়েছে পাঁচটি মূল স্তম্ভ:

নারকোটিক্স এনোনিমাস (এনএ)

এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি যেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা একে অপরের সাহায্যে সুস্থ জীবনযাপনের পথ খুঁজে পায়।

এখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অনুভূতি, সংগ্রাম এবং সাফল্যগুলো দলগতভাবে ভাগ করে নেয়। এই খোলামেলা আলোচনা মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে সহায়ক।

নারকোটিক্স এনোনিমাসের মূল ভিত্তি এই ১২ ধাপের প্রোগ্রাম যা ধাপে ধাপে ব্যক্তিকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ জীবনের দিকে নিয়ে যায়।

এনএ গোষ্ঠীর ঐক্য ও কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য ১২টি মূলনীতি যা সমস্ত সদস্যের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বজায় রাখে।

নিয়মিত সভার মাধ্যমে সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে শক্তি ও অনুপ্রেরণা সংগ্রহ করে এবং তাদের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে।

প্রতিটি নতুন সদস্যকে একজন অভিজ্ঞ স্পন্সর নিয়োগ দেওয়া হয় যিনি তাকে এই যাত্রাপথে নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করেন।

পজিটিভ পিয়ার কালচার (পিপিসি)

ইতিবাচক সাথী সংস্কৃতি বা পিপিসি পদ্ধতিতে সমান অবস্থানের ব্যক্তিরা একে অপরকে ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়তা করে।

চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয় যারা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চান এবং চিকিৎসা প্রোগ্রামে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক।

দলগত আলোচনার মাধ্যমে ব্যক্তিরা তাদের সমস্যাগুলো ভাগ করে নেয় এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে।

গঠনমূলক প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাদের চিন্তা ও আচরণ বিশ্লেষণ করার সুযোগ পায়।

দলের অন্যান্য সদস্যরা প্রত্যেকের উন্নতি ও পরিবর্তন সম্পর্কে গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া প্রদান করে যা ব্যক্তিকে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

দলগতভাবে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান অনুশীলন করা হয় যা মাদকমুক্ত জীবনে প্রতিকূলতা মোকাবেলায় সহায়ক হয়।

থেরাপিউটিক কমিউনিটি (টিসি)

চিকিৎসামূলক সম্প্রদায় পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীরা একটি সহায়ক পরিবেশে একসাথে বসবাস ও চিকিৎসা গ্রহণ করে।

একটি সুসংগঠিত দৈনন্দিন রুটিন অনুসরণ করা হয় যাতে চিকিৎসা, থেরাপি, কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

প্রতিটি সদস্যকে সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় যা তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার অনুভূতি গড়ে তোলে।

সদস্যরা একে অপরের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করে।

সম্প্রদায়ের মধ্যে বসবাসের মাধ্যমে ব্যক্তিরা সামাজিকতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও অন্যান্য জীবন দক্ষতা উন্নত করে।

সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে।

প্রশাসনিক কাঠামো

আমাদের কেন্দ্র একটি দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক দল দ্বারা পরিচালিত হয় যারা প্রতিটি মাদকাসক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিচালক

রুহানুল ইসলাম লিমন

📱 ০১৯৬৬ ৪২ ৪৪ ০১

সহকারী পরিচালক

কাজী জোনায়েদ রোমন

📱 ০১৬১১ ৪৯৯ ৫৬৪

কো-অর্ডিনেটর

আসিফ রাহমান

📱 ০১৯ ১১ ৪৭৭ ৪১৬

চিকিৎসা ব্যবস্থাপক

মো: রাসেল মিয়া

📱 ০১৭৯৭ ৭৮ ৫৬ ২৫

ডাটাবেইজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর

ইমতিয়াজ সিদ্দিক অভি

📱 ০১৭৯১ ০৯ ৫২ ২৪

আমাদের দলে আরও আছেন চারজন ভলান্টিয়ার ও চারজন স্টাফ সদস্য যারা নিবেদিতভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

সেবাসমূহ

  • সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক নিয়মিত রোগী দেখার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জুরদি আদম-এর নিয়মিত চিকিৎসা সেবা
  • সরাসরি ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা ২৪/৭/৩৬৫ প্রদান
  • এন্টি-নারকোটিক্স ট্রিটমেন্ট এর উপর বিশেষজ্ঞ রিকোভারি দ্বারা ক্লাস ও সেশন পরিচালনা
  • পরিবার ভিত্তিক কাউন্সেলিং ও সহায়তা সেবা
  • চিকিৎসা পরবর্তী ফলো-আপ ও সহায়তা কর্মসূচি
  • পেশাগত প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সহায়তা
  • সমাজে পুনরেকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান

জীবনের চার প্রহর

প্রথম প্রহর
দুধ-সাদা শৈশবের গাথা,
স্বর্গের স্বাদ ছিলো পাতায় পাতায়,
কুয়াশা ঢাকা স্মৃতির ছবি,
শুধু সুর বাজে অন্ধকারে।
দ্বিতীয় প্রহর
পিতাহারা আকাশের নিচে,
হঠাৎ ভেঙে পড়া পৃথিবীর বুকে,
তবুও কিছুদিন নিরাপদে ছিলাম
অবুঝ ছায়ার ছাতার নিচে।

তারপর এলো প্রতিভার প্রদর্শনী,
প্রথম হওয়ার কৃত্রিম উৎসব,
পরীক্ষার গ্লানি, বিজয়ের ধূম্রজাল,
অন্যরে খুশি করতে জীবন আবর্ত।

স্কুল যায়, প্রহরও যায় সাথে,
এখনো রোদ লাগেনি শরীরে,
জানতাম না তখন জীবনের রাতে
কী অপেক্ষায় আছে ধীরে ধীরে।
তৃতীয় প্রহর
কলেজের প্রবেশপথে,
বাস্তবের রৌদ্র লাগে মুখে,
মায়ের আঁচল ক্ষীণ ছায়া দিলে
বাবার শূন্যতা জ্বলে বুকে।

যারা আসনে ছিল পিতার স্থলে,
তারা নিজ পথেই হাঁটলো দূরে,
রয়ে গেলাম পথের সমীকরণে
ভুল-শুদ্ধের দোদুল্য সুরে।

গোলকধাঁধার মাঝে দাঁড়িয়ে
প্রশ্ন শুধু : কোনটা সঠিক পথ?
চোখের জলে ভেসে যায় রাতে
কেউ কি আসবে হাত বাড়াতে কত?

ভুল করেছি, আঁধারে হোঁচট খেয়ে,
মরীচিকার হাসি দেখেছি চারিপাশে,
তবু শেষ প্রহরে এসে জেনেছি
পরাজয় নয়, শিক্ষা মিলেছে এত আশে।
চতুর্থ প্রহর
জরাজীর্ণতা কাটিয়ে উঠি,
মুখোশগুলো চিনি এখন ভালো,
জীবনের জয় মাপি না ট্রফিতে ট্রফিতে,
আত্মার শান্তিতে মিলেছে আলো।

যারা হাসিলো আমার পতনে,
স্বার্থের দাসত্বে বাঁধা পড়ে গেল,
বিধাতার নিক্তিতে সবারি মূল্য
সত্যের পাল্লায় ওজন হলো।

আমি ঠকেছি, কিন্তু হারিনি কখনো,
পথের বাঁকে বাঁকে শিখেছি ভাষা,
চার প্রহরের এই যাত্রাপথে
আত্মজয়ই সবচেয়ে বড়ো আশা।
এই কবিতাটি প্রতিটি মাদকাসক্ত ব্যক্তির জীবনসংগ্রামের প্রতীক যারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান